সাবেক কর্মকর্তার ২৫ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ : শাহজালালের অর্থ আত্মসাত,
সিলেট প্রতিনিধি :
সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্প থেকে আত্মসাত করা অর্থে কেনা বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। জব্দ সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১২টি ফ্ল্যাট, জমি, জমির শেয়ার এবং ব্যাংক হিসাবের অর্থ।
সিআইডি জানায়, শাহজালাল ফার্টিলাইজারের সাবেক হিসাব বিভাগের প্রধান খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বিল ও রসিদ দাখিল করে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেন।
আত্মসাত করা অর্থ দিয়ে তিনি নিজের নামে এবং স্ত্রী হালিমা আক্তারের নামে বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করেন—এমন প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর এসব সম্পদ জব্দ করা হয়।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, জব্দকৃত সম্পদের আনুমানিক মোট মূল্য কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকা। জব্দ তালিকায় রয়েছে ২৩ দশমিক ৫ কাঠা জমি, ১১টি জমির শেয়ার (মোট ৩৯২ দশমিক ৭৩২৩ অযুতাংশ), ১২টি ফ্ল্যাট—যার দলিল মূল্য ৮ কোটি ৪৭ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯০ টাকা হলেও বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশে তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা ৩০ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫২ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
মামলার তদন্তে জানা যায়, ২০০৫ সালে বিসিআইসির শাহজালাল সার কারখানায় সহকারী হিসাবরক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল। পরবর্তীতে তিনি হিসাব বিভাগের প্রধান পদে পদোন্নতি পান। ১৪ বছরের চাকরি জীবনে তিনি ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, ঢাকা-গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি, দুটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর এবং ৯১টি গাড়ির মালিক হন। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রায় পাঁচ বছর আগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
সিআইডি জানায়, ২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল সংস্থাটি বাদী হয়ে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ইকবাল ভুয়া বিল ও রসিদ ব্যবহার করে শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্প থেকে মোট ৩৮ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৫১ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এসব ভুয়া বিল ও রসিদ তৈরি করা হয় তার স্ত্রী হালিমা আক্তারের মালিকানাধীন দুটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান—টিআই ইন্টারন্যাশনাল ও নুসরাত ট্রেডার্সের নামে।
তদন্তে আরও জানা যায়, ২০২২ সালের জুনে র্যাব অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ইকবাল ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে। পরে র্যাবের অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান শুরু করে এবং তদন্ত শেষে মামলা দায়ের করে।